বিপিএসসির অধীনে কারা অধিদপ্তরের ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫ সম্পুর্ন সমাধান

বিপিএসসির অধীনে কারা অধিদপ্তরের ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫

তারিখঃ ২৮.১০.২০২৫ পূর্ণমান- ২০০ সময়- ৪.০০ ঘণ্টা কোডঃ ধরলা
বিষয় কোডঃ ১০১ (বাংলা)
১. 'মানব কল্যাণে বিজ্ঞান' শিরোনামে একটি প্রবন্ধ রচনা করুন।

(বাংলা রচনা অংশ দেখুন)

২. সারমর্ম লিখুন:
শৈশবে সদুপদেশ যাহার না রোচে,
জীবনে তাহার কভু মুর্খতা না ঘোচে।
চৈত্র মাসে চাষ দিয়া না বোনে বৈশাখে,
কবে সেই হৈমন্তিক ধান্য পেয়ে থাকে?
সময় ছাড়িয়া দিয়া করে পন্ডশ্রম,
ফলচাহে, সেও অতি নির্বোধ অধম।
খেয়া তরী চলে গেলে বসে থাকে রীতে,
কীসে পার হবে, তরী না আসিলে ফিরে?
সারমর্মঃ

জীবন গঠনের শ্রেষ্ঠ সময় হলো শৈশবকাল। এ সময় সদুপদেশ মেনে না চললে ভবিষ্যতে সাফল্য আসে না। সময়ের কাজ সময়ে করাও সফলতা অর্জনের অন্যতম চাবিকাঠি। সময়মত কোনো কাজ না করলে পরবর্তীতে অধিক পরিশ্রম করেও সে কাজে সাফল্য অর্জন করা যায়না।

৩. আপনার পঠিত প্রিয় একটি বইয়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে ছোট বোনকে একটি পত্র লিখুন।

তারিখ: ১০ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি.
স্নেহের আশা,
আশা করি ভালো আছিস। তোর চিঠি পেয়ে খুব খুশি হয়েছি। তুই জানতে চেয়েছিলি যে সম্প্রতি আমি কোন বইটি পড়ে মুগ্ধ হয়েছি বা আমার ভালো লেগেছে। আজ সেই বইটি পড়ার অভিজ্ঞতা তোকে জানাব।

সম্প্রতি আমি বিশিষ্ট সাহিত্যিক আনিসুল হক-এর লেখা 'মা' উপন্যাসটি শেষ করেছি। বইটি পড়ার পর আমার মনকে যেন ছুঁয়ে গেছে।

এই বইটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে শহীদ আজাদ ও তাঁর মায়ের আত্মত্যাগ এবং অসামান্য ভালোবাসার গল্প। বইটিতে লেখক অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় আজাদের মায়ের অনমনীয় দেশপ্রেম এবং সন্তানের প্রতি তাঁর গভীর স্নেহ ফুটিয়ে তুলেছেন। আজাদ যখন ধরা পড়েন, তাঁর মা শপথ করেছিলেন যে আজাদের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি ভাত খাবেন না, শুধুমাত্র জাউ খাবেন। পরবর্তীতে আজাদের আর ফেরা হয়নি, আর মাও তাঁর শপথ রাখতে গিয়ে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আর ভাত স্পর্শ করেননি।

এই গল্পটি পড়তে গিয়ে আমি বারবার আবেগাপ্লুত হয়েছি। বইটি আমাকে শিখিয়েছে যে দেশপ্রেম শুধু বড় বড় যুদ্ধেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি মায়ের ভালোবাসার মতো গভীর ত্যাগ ও প্রতিজ্ঞার মাধ্যমেও প্রকাশিত হতে পারে। উপন্যাসটি পড়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনের অসংখ্য মায়ের নীরব আত্মত্যাগের চিত্র আমার কাছে আরও স্পষ্ট হয়েছে। এটি শুধুই একটি বই নয়, এটি আমাদের ইতিহাস ও আবেগের একটি দলিল।

আমি তোকে অনুরোধ করব, তুইও বইটি সংগ্রহ করে পড়ে দেখিস। আশা করি তোরও খুব ভালো লাগবে।

আজ আর নয়। বাবা-মাকে আমার শ্রদ্ধা জানাস। মন দিয়ে পড়াশোনা করিস এবং নিজের যত্ন নিস।

ইতি,
তোর প্রিয় দিদি/দাদা,
[তোমার নাম 'ক']

প্রেরক, প্রাপক, ডাক টিকিট
মোঃ 'ক'
বেতাগী, বরগুনা
আশা
ফার্মগেট, ঢাকা
৪. বাংলায় অনুবাদ করুন:
Education is not limited to schools, colleges and universities. We have learnt a lot from family, society and from the whole world. That which we learn from the real experience of life is no less important than that we learn traditionally from the school and college. Therefore, it can be said that education is a life long process.
অনুবাদঃ

শিক্ষা শুধু স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমরা পরিবার, সমাজ এবং সমগ্র পৃথিবী থেকে অনেক কিছু শিখে থাকি। জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমরা যা শিখি, তা ঐতিহ্যগতভাবে স্কুল ও কলেজ থেকে শেখা জ্ঞানের চেয়ে কোনো অংশেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। অতএব, বলা যায় যে শিক্ষা একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া।

৫. (ক) শুদ্ধ বানান লিখুন: শ্বাশুড়ি, প্রতিদ্বন্দ্বীতা, প্রাণীজগত, স্টেডিয়াম, ধরণ।
অশুদ্ধ বানান শুদ্ধ বানান
শ্বাশুড়িশাশুড়ি
প্রতিদ্বন্দ্বীতাপ্রতিদ্বন্দ্বিতা
প্রাণীজগতপ্রাণিজগৎ
স্টেডিয়ামস্টেডিয়াম
ধরণধরন
(খ) এক কথায় প্রকাশ করুন:
বাক্যাংশ এক কথায় প্রকাশ
ফুল হতে জাতফুলেল
পিতার পিতাপিতামহ
যার গন্ধ নেইনির্গন্ধ
সর্বজনের জন্য হিতকরসর্বজনীন
ফুরায়ে না যাঅক্ষয়
ENGLISH (Subject Code: 102, Marks: 40)
1. Write an essay on "Healthcare in Bangladesh" using the hints given below.

[Hints: Introduction- Healthcare in rural areas- Healthcare in urban areas- Role of private sector in providing healthcare- Healthcare for the elderly- Community healthcare- Suggestions for overall improvement- Conclusion.]

Introduction:

Healthcare (স্বাস্থ্যসেবা) is one of the most essential needs for any nation. A sound health system ensures a healthy and productive (উৎপাদনশীল) population. Bangladesh has made great progress in immunization, maternal (মাতৃ) care, and life expectancy, but challenges still remain in equal access and quality services.

Healthcare in Rural Areas:

Most people live in rural (গ্রামীণ) areas where medical facilities are limited. Government community clinics and Upazila health complexes provide basic services, but shortage of doctors, nurses, and medicines causes suffering. Lack of awareness (সচেতনতা) and poor transport make the situation worse.

Healthcare in Urban Areas:

Urban (শহরাঞ্চল) citizens have more hospitals and diagnostic centers, yet overcrowding, pollution (দূষণ), and high cost remain problems. Many government hospitals are congested (ভিড়যুক্ত) and lack proper management.

Role of Private Sector:

Private hospitals and clinics offer modern (আধুনিক) treatment and better facilities, but they are very expensive (ব্যয়বহুল). This widens the gap between rich and poor.

Healthcare for the Elderly:

Elderly people (বয়স্ক মানুষ) often suffer from chronic diseases like diabetes and heart problems. Special geriatric (বৃদ্ধদের) care centers and low-cost medicine supply are needed to protect them.

Community Healthcare:

Community clinics (কমিউনিটি ক্লিনিক) provide free primary healthcare, vaccination, and maternal services. They bring healthcare close to rural people and reduce pressure on big hospitals.

Suggestions for Improvement:

The government should recruit more doctors and nurses, ensure free medicine supply, promote health awareness, and strengthen public-private partnerships (সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব) for better management.

Conclusion:

Bangladesh has made remarkable (উল্লেখযোগ্য) progress in healthcare, but ensuring equal and affordable (সহনীয়) access is vital. With efficient planning and community participation, "Health for All" (সবার জন্য স্বাস্থ্য) can truly be achieved.

2. Write a letter to the Mayor of your City Corporation/Municipality for proper disposal of medical waste produced in your locality.

14 October, 2025
The Mayor
Dhaka South City Corporation
Dhaka-1205.

Subject: Prayer for proper disposal (সঠিক নিষ্পত্তি) of medical waste produced in our locality.

Dear Sir/Madam,
We, the inhabitants (বাসিন্দারা) of Dhaka South City Corporation area, beg most respectfully to draw your kind attention to a serious problem in our locality- the improper disposal of medical waste. Every day, a huge amount of medical waste such as syringes (সুই), bandages, expired medicines, and other contaminated (দূষিত) materials are thrown carelessly in open areas and drains.

These wastes produce a foul smell, spread infectious diseases, and pollute both air and water. Many clinics, diagnostic centers, and small hospitals do not follow proper waste management rules (বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ম). As a result, the risk of spreading infectious diseases like hepatitis, HIV, is increasing. Waste operators, children and poor people who collect waste from the streets are especially at risk.

We, therefore, earnestly request you to take immediate steps to ensure safe and scientific (বৈজ্ঞানিক) disposal of medical waste. Setting up a separate waste collection system for hospitals and clinics, and raising public awareness will help solve this problem effectively.

In the circumstances stated above, we hope that your honour would kindly take necessary measures (প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা) for proper disposal of medical waste in our locality and oblige thereby.

Yours faithfully,
Smart Vision Academy
On behalf of the residents of Dhaka South City Corporation

3. Read the following passage and answer the questions that follow:
Florence Nightingale did not like easy and pleasant occupations of society; instead of going out to parties she visited London hospitals and studied how sick people were nursed back to health and strength. She was shocked by the roughness and stupidity in those hospitals. She went out to Germany and France and learned there all she could about nursing. She returned to England and devoted herself to the hard task of improving the hospitals. Just then the Crimean War broke out. English soldiers went out singing to their death. But dreadful stories came home of wounded men being left to die. Everybody felt that something heroic must be done to put a stop to the sufferings of the brave soldiers. That was done by Florence Nightingale. She went to Crimea with about forty nurses and in a few months she brought order and comfort into what had been utter chaos and unspeakable misery.

a) Why did Florence Nightingale visit London hospitals?
Ans: Florence Nightingale visited London hospitals because she wanted to study how sick people were nursed back to health and strength. She was deeply interested in improving the condition of hospitals and learning proper nursing care.

b) What shocked her in those hospitals?
Ans: She was shocked by the roughness and stupidity of the hospital staff and the poor way in which sick people were treated.

c) Why did she go to Germany and France?
Ans: She went to Germany and France to learn modern nursing techniques and gather more knowledge about patient care.

d) What did she do after returning to England?
Ans: After returning to England, she devoted herself to improving hospitals and nursing systems throughout the country.

e) What did she do in Crimea?
Ans: In Crimea, she went with about forty nurses to care for wounded soldiers, bringing order, cleanliness, and comfort where there had been chaos and misery.

4. Rewrite the following sentences and use the idiom as directed:

a) She is best girl in the class. (correct the sentence)
Correct: She is the best girl in the class.

ব্যাখ্যা: "Best" একটি superlative adjective, যা বোঝায় শ্রেষ্ঠ বা সর্বোত্তম। Superlative adjective-এর আগে সবসময় the বসে, কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে তুলনা প্রকাশ করে। যেমন- "He is the tallest boy in the class."

b) he old man died for cancer (correct the sentence)
Correct: The old man died of cancer.

ব্যাখ্যা: রোগ বা অসুস্থতার কারণে মৃত্যুর ক্ষেত্রে of preposition ব্যবহৃত হয়। যেমন- "He died of fever." অন্যদিকে, from ব্যবহৃত হয় বাহ্যিক কারণে মৃত্যুর ক্ষেত্রে, যেমন "He died from an accident."

c) I (read) the book for three hours. (use the right form of the verb)
Correct: I have been reading the book for three hours.

ব্যাখ্যা: যখন কোনো কাজ অতীতে শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত চলছে, তখন Present Perfect Continuous Tense ব্যবহৃত হয়। এই Tense-এর গঠন হলো: Subject + have/has been + verb (ing form) + object + (since/for + time)।
• For ব্যবহৃত হয় সময়ের স্থায়িত্ব বোঝাতে (যেমন: for two hours, for a long time, for three days)।
• Since ব্যবহৃত হয় কোনো নির্দিষ্ট সময়ের বিন্দু থেকে কাজ শুরু বোঝাতে (যেমন: since 2010, since morning, since last night)।

d) The doctor (arrive) before the patient died. (use the correct form of the verb)
Correct: The doctor had arrived before the patient died.

ব্যাখ্যা: যখন অতীতের দুটি কাজের মধ্যে একটি আগে এবং অপরটি পরে সংঘটিত হয়, তখন আগের কাজটি Past Perfect Tense হয় এবং পরে সংঘটিত কাজটি Past Indefinite Tense হয়।
Structure: Past Perfect Tense + before + Past Indefinite Tense

e) The man was cured his illness.
Correct: The man was cured of his illness.

ব্যাখ্যা: "Cure" শব্দটির পরে যখন রোগ বোঝানো হয়, তখন of preposition বসে। যেমন- "She was cured of malaria." এটি Passive Voice-এ ব্যবহৃত একটি সাধারণ গঠন।

f) He is not qualified this post. (fill in the gap with the appropriate preposition)
Correct: He is not qualified for this post.

ব্যাখ্যা: "Qualified" শব্দটি কোনো পদের যোগ্যতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং এর পরে সবসময় for preposition ব্যবহৃত হয়। যেমন- "He is qualified for the job."

g) Medha has made tea. (Turn into passive voice)
Correct: Tea has been made by Medha.

ব্যাখ্যা: Passive Voice গঠনে মূল verb-এর আগে has/have been বসে এবং verb-এর past participle (V3) ব্যবহৃত হয়। Active-এর Object (tea) হয়ে যায় Passive-এর Subject, আর Subject (Medha) হয়ে যায় by phrase (by Medha)। এখানে has made → has been made হয়েছে কারণ বাক্যটি Present Perfect Tense-এ ছিল।

h) Eating habits are controlled by people's beliefs. (turn into active voice)
Correct: People's beliefs control eating habits.

ব্যাখ্যা: Passive থেকে Active-এ রূপান্তর করার সময়, subject এবং object এর অবস্থান পরিবর্তন হয় এবং by বাদ দেওয়া হয়। এখানে "are controlled by" → "control" হয়েছে।

i) She said, "I am reading a novel." (turn into indirect narration)
Correct: She said that she was reading a novel.

ব্যাখ্যা: Direct Speech থেকে Indirect Speech-এ রূপান্তরের সময় tense এক ধাপ পেছনে চলে যায় (Present Continuous → Past Continuous)। এছাড়া, "that" ব্যবহৃত হয় সংযোগের জন্য এবং pronoun পরিবর্তিত হয় ("I" → "she")।

j) Make a sentence with the idiom: "take care of".
Sentence: Nurses take care of the patients with love and compassion.

ব্যাখ্যা: "Take care of" একটি Idiom, যার অর্থ যত্ন নেওয়া বা দেখাশোনা করা। এটি সাধারণত মানুষ, প্রাণী বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ জিনিসের যত্ন বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যেমন- "Parents take care of their children."

বিষয় কোডঃ ১০৪ (সাধারণ জ্ঞান, মান: ৪০)
বাংলাদেশ বিষয়াবলী

১. "সংবিধান" এর সংজ্ঞা লিখুন। বাংলাদেশ সংবিধান কত তারিখ থেকে কার্যকর হয়? বাংলাদেশের সংবিধানে কতটি অনুচ্ছেদ রয়েছে?
উত্তরঃ সংবিধান হলো একটি রাষ্ট্রের মূল আইন, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতি, শাসনব্যবস্থা, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারিত হয়। এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন হিসেবে বিবেচিত। এটি সরকারের বিভিন্ন বিভাগ—আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলী নির্ধারণ করে এবং জনগণের অধিকার ও রাষ্ট্রের মৌলিক নীতিসমূহ বিধিবদ্ধ করে। সংবিধান একটি দেশের রাজনৈতিক ও আইনি কাঠামোকে স্থিতিশীলতা প্রদান করে।

বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হওয়ার তারিখ: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হওয়ার পর ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ তারিখ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়।

বাংলাদেশের সংবিধানে অনুচ্ছেদের সংখ্যা: বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩টি (একশত তিপ্পান্নটি) অনুচ্ছেদ রয়েছে, যা ১১টি ভাগ এবং ৭টি তফসিলে বিভক্ত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার যাবতীয় নিয়ম-কানুন ও মৌলিক অধিকারসমূহকে সুসংগঠিত করেছে।

২. বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন "সোমপুর বিহার" কোন জেলায় অবস্থিত? ময়নামতি সভ্যতা কোন ধর্মাবলম্বীর নিদর্শন? বাংলাভাষার আদি নিদর্শন কী?
সোমপুর বিহার: বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন সোমপুর মহাবিহার বা পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার নওগাঁ জেলায় অবস্থিত। পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপাল দেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এটি নির্মাণ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহারগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান (UNESCO World Heritage Site) হিসেবে মর্যাদা লাভ করেছে।
ময়নামতি সভ্যতা: কুমিল্লা জেলার লালমাই-ময়নামতি অঞ্চলে অবস্থিত প্রাচীন ময়নামতি সভ্যতা মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের নিদর্শন। এখানে আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোর মধ্যে শালবন বিহার এবং বিভিন্ন বৌদ্ধ স্তূপই প্রধান। এই অঞ্চলে খ্রিস্টীয় ৮ম থেকে ১২শ শতকের মধ্যে বৌদ্ধ ধর্মের ব্যাপক প্রভাব ছিল, যদিও এখানে হিন্দু ও জৈন ধর্মেরও কিছু নিদর্শন পাওয়া যায়।
বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন: বাংলা ভাষার আদি ও প্রাচীনতম সাহিত্যিক নিদর্শন হলো চর্যাপদ। এটি মূলত খ্রিস্টীয় অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে রচিত বজ্রযানী বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত একগুচ্ছ গানের সংকলন। ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন। চর্যাপদের ভাষা সান্ধ্যভাষা বা আলো-আঁধারির আলোকময় রূপকে তুলে ধরে।

৩. জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আবু সাঈদ কত তারিখে শহীদ হন? বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টার নাম কী? অন্তবর্তী সরকার কখন দায়িত্বগ্রহণ করেন?
শহীদ আবু সাঈদ: ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে (কোটা সংস্কার আন্দোলন) আবু সাঈদ ১৬ জুলাই ২০২৪ তারিখে শহীদ হন। তিনি রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সমন্বয়ক ছিলেন এবং আন্দোলনকারীরা তাঁকে এই আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে আখ্যায়িত করে। সরকার ৫ আগস্টকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস এবং ১৬ জুলাইকে শহীদ আবু সাঈদ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা: বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার নাম নূরজাহান বেগম। তিনি একজন ব্যাংকার এবং গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বগ্রহণ: ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নেন এবং উপদেষ্টা পরিষদ নিয়ে সরকারের যাত্রা শুরু হয়।

৪. ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব কে পালন করেন? ঢাকায় আত্মসমর্পণকারী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নাম কী?
প্রধান সেনাপতি: ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তি বাহিনীর (বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর) প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন জেনারেল মোহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী (এম. এ. জি. ওসমানী)। তিনি মুজিবনগর সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হয়েছিলেন।
আত্মসমর্পণকারী পাকিস্তানি সেনানায়ক: ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) যৌথবাহিনীর (ভারত ও বাংলাদেশ) কাছে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষরকারী পাকিস্তানি সেনানায়ক ছিলেন লেফট্যানেন্ট জেনারেল এ. এ. কে. নিয়াযী (আমীর আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী)। তিনি ছিলেন পাকিস্তান বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধিনায়ক।

৫. কত তারিখে প্রবাসী সরকার শপথ গ্রহণ করে? "নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস" কত তারিখে? "সূর্যের হাসি" কিসের প্রতীক? বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের একটি গ্রন্থের নাম লিখুন।
প্রবাসী সরকারের শপথ: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ অস্থায়ী সরকার, যা মুজিবনগর সরকার বা প্রবাসী সরকার নামে পরিচিত, ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ তারিখে শপথ গ্রহণ করে। এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় অনুষ্ঠিত হয়, যা পরে মুজিবনগর নামকরণ করা হয়।
নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস: বাংলাদেশে জাতীয় নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালিত হয় ২৮ মে।
"সূর্যের হাসি" কিসের প্রতীক: "সূর্যের হাসি" হলো বাংলাদেশে মা ও শিশু স্বাস্থ্য তথা পারিবারিক স্বাস্থ্য সেবার প্রতীক। এটি স্থানীয় ক্লিনিক বা সেবা কেন্দ্রগুলোর একটি নেটওয়ার্কের নাম, যা জনগণের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়।
বেগম রোকেয়ার একটি গ্রন্থ: বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম হলো: সুলতানার স্বপ্ন (Sultana's Dream, ১৯০৫)। অন্যান্য বিখ্যাত গ্রন্থ: মতিচূর (প্রবন্ধ সংগ্রহ), পদ্মরাগ (উপন্যাস), অবরোধ-বাসিনী।

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী

৬. যুক্তরাজ্যের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নাম কী? লন্ডন শহর কোন নদীর তীরে অবস্থিত? "কমনওয়েলথ" সংস্থার প্রধান কে?
প্রধানমন্ত্রী: যুক্তরাজ্যের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হলেন স্যার কিয়ার স্টারমার (Sir Keir Starmer)। তিনি লেবার পার্টির নেতা এবং ২০২৪ সালের ৫ জুলাই থেকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
লন্ডন শহর: লন্ডন শহরটি টেমস নদীর (River Thames) তীরে অবস্থিত। এই নদীটি ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে এবং লন্ডন শহরকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছে।
কমনওয়েলথ সংস্থার প্রধান: কমনওয়েলথ অফ নেশনস সংস্থার প্রধান হলেন রাজা তৃতীয় চার্লস (King Charles III)। এই পদটি কমনওয়েলথভুক্ত সরকার প্রধানদের দ্বারা স্বীকৃত এবং যুক্তরাজ্যের শাসক কর্তৃক পদাধিকারবলে অলংকৃত হয়, যদিও কমনওয়েলথের প্রশাসনিক প্রধান হলেন মহাসচিব।

৭. "হিরোশিমা" কোন দেশে অবস্থিত? শহরটি কি কারণে সারা বিশ্বে পরিচিত? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কত সালে শুরু হয়?
হিরোশিমার অবস্থান: হিরোশিমা শহরটি জাপান (Japan) দেশে অবস্থিত। এটি জাপানের মূল দ্বীপ হোনশু-এর চুউগোকু অঞ্চলের সবচেয়ে বড় নগর এবং হিরোশিমা প্রশাসনিক অঞ্চলের রাজধানী।
পরিচিতির কারণ: হিরোশিমা শহরটি সারা বিশ্বে পরিচিত তার ঐতিহাসিক ও মর্মান্তিক ঘটনার জন্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে, ৬ আগস্ট, ১৯৪৫ তারিখে মার্কিন বিমান বাহিনী এই শহরের উপর বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম পারমাণবিক বোমা ('লিটল বয়') নিক্ষেপ করে। এই বোমা হামলায় শহরটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয় এবং লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনা মানব ইতিহাসে পারমাণবিক অস্ত্রের ধ্বংসলীলা এবং বিশ্ব শান্তির গুরুত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা: ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯ তারিখে জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে ইউরোপে এই যুদ্ধের সূচনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, ৩ সেপ্টেম্বর ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

৮. বর্তমানে সার্ক এর সদস্য সংখ্যা কয়টি? সার্ক কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়? SAARC এর পূর্ণরূপ কি?
বর্তমান সদস্য সংখ্যা: বর্তমানে সার্ক (SAARC)-এর সদস্য সংখ্যা হলো ৮টি। সদস্য দেশগুলো হলো: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ এবং আফগানিস্তান (আফগানিস্তান ২০০৭ সালে অষ্টম সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়)।
প্রতিষ্ঠার সাল: সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয় ৮ ডিসেম্বর, ১৯৮৫ সালে। প্রতিষ্ঠাকালীন সম্মেলনটি বাংলাদেশের ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
SAARC এর পূর্ণরূপ: South Asian Association for Regional Cooperation (দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা)।

৯. পররাষ্ট্রনীতির সংজ্ঞা দিন। বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৫ মোতাবেক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিগুলো সুনির্দিষ্ট করে লিখুন।
উত্তর: পররাষ্ট্রনীতি হলো কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত সেই সকল নীতি, কৌশল ও কর্মপন্থা যা দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বা বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক পরিচালনা ও স্থাপনের ক্ষেত্রে অনুসরণ করে। সহজ কথায়, এটি এমন একটি কার্যপরিকল্পনা যা একটি রাষ্ট্র তার জাতীয় স্বার্থ (যেমন—নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ) রক্ষা ও সম্প্রসারণের জন্য অন্য রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে লেনদেন, চুক্তি ও সম্পর্ক বজায় রাখতে নির্ধারণ করে।

বাংলাদেশ সংবিধানের (সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৫):
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৫-এ বর্ণিত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ও সুনির্দিষ্ট নীতিগুলো নিম্নরূপ:
মূলনীতি: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র হলো "সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়"। এটি আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদে বর্ণিত নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়。
সুনির্দিষ্ট পররাষ্ট্রনীতিসমূহ: অনুচ্ছেদ ২৫-এর বিধান অনুসারে বাংলাদেশ প্রধানত নিম্নলিখিত নীতিগুলো অনুসরণ করে:
১. জাতীয় সমতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা: অন্যান্য রাষ্ট্রের জাতীয় সমতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা।
২. শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্তর্জাতিক বিরোধের নিষ্পত্তি: আন্তর্জাতিক বিরোধসমূহ শান্তিপূর্ণ উপায়ে মীমাংসা করার জন্য প্রচেষ্টা চালানো।
৩. আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রতি আস্থা: আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি আস্থা ও সম্মান প্রদর্শন করা।
৪. আন্তর্জাতিক সংহতি ও সহযোগিতা: আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে জোরদার করা এবং বিশ্বের সকল দেশের সাথে সংহতি ও সহযোগিতা বজায় রাখা।
৫. ঐতিহাসিক সংগ্রাম সমর্থন: পৃথিবীর সর্বত্র সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতা বা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত জনগণের ন্যায্যসংগ্রামকে সমর্থন করা।

১০. নিম্নোক্ত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্ণরূপ কি? ILO, UNICEF, UNDP
ILO → International Labour Organization (আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা)
UNICEF → United Nations International Children's Emergency Fund (জাতিসংঘ শিশু তহবিল)
UNDP → United Nations Development Programme (জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি)

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

১১. অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার কী? প্রাণিদেহের দীর্ঘতম কোষ কোনটি?
অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার: অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার হলো এমন একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম যা ভাইরাস, ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার, ট্রোজান ইত্যাদি ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম শনাক্ত, প্রতিরোধ ও অপসারণ করে কম্পিউটারকে সুরক্ষিত রাখে। উদাহরণ: Avast, Kaspersky, Norton, Quick Heal ইত্যাদি।
প্রাণীদেহের দীর্ঘতম কোষ: প্রাণীদেহের দীর্ঘতম কোষ হলো স্নায়ুকোষ (Nerve Cell বা Neuron)। এটি স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে বার্তা পরিবহন করে এবং মানুষের ক্ষেত্রে এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১ মিটার পর্যন্ত হতে পারে।

১২. এসিড বৃষ্টি কী? এসিড বৃষ্টি কেন হয়?
এসিড বৃষ্টি: এসিড বৃষ্টি হলো এমন এক ধরনের বৃষ্টি, যার পানির অম্লতা (এসিডিটি) স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। সাধারণত বৃষ্টির পানির pH মান ৫.৬ এর নিচে হলে তাকে এসিড বৃষ্টি বলা হয়।
এসিড বৃষ্টি কেন হয়: বায়ুমণ্ডলে থাকা সালফার ডাই-অক্সাইড (SO₂) ও নাইট্রোজেন অক্সাইড (NO₂) গ্যাস বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) ও নাইট্রিক এসিড (HNO₃) তৈরি করে। এই এসিডযুক্ত পানি বৃষ্টি হিসেবে পড়লে সেটাই এসিড বৃষ্টি।
মূল কারণসমূহ: কলকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও যানবাহনের ধোঁয়া; কয়লা ও তেল পোড়ানো; শিল্প কারখানার দূষণ।
ক্ষতি: গাছপালা ও ফসলের ক্ষতি করে; ভবন, ধাতব বস্তু ও মার্বেল ক্ষয় করে; জলজ প্রাণীর ক্ষতি করে; মানুষের ত্বক ও চোখে জ্বালা সৃষ্টি করে।

১৩. পেনিসিলিন কে আবিষ্কার করেন? লোহিত রক্ত কনিকা এতদিন বেঁচে থাকে?
পেনিসিলিন আবিষ্কারক: পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন স্কটিশ বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং (Sir Alexander Fleming)। তিনি ১৯২৮ সালে দুর্ঘটনাক্রমে এই অ্যান্টিবায়োটিকটি আবিষ্কার করেন। এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার।
লোহিত রক্তকণিকার জীবদ্দশা: মানুষের রক্তে লাল রক্তকণিকা (বা লোহিত রক্তকণিকা, Erythrocytes) সাধারণত ১২০ দিন (চার মাস) বেঁচে থাকে। লোহিত রক্তকণিকা অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন হয় এবং এদের জীবদ্দশা শেষ হলে প্লীহা (Spleen) ও যকৃতে (Liver) ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

১৪. ডিজিটাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহারের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি সম্পর্কে আপনার সুনির্দিষ্ট মতামত লিখুন।
মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানো বাস্তব জীবনের সাথে নিজেকে তুলনা করার প্রবণতা বাড়ায়, যা হতাশা, উদ্বেগ ও মানসিক অস্থিরতার কারণ হয়।
সময় অপচয় ও উৎপাদনশীলতা হ্রাস: প্রয়োজনীয় পড়াশোনা, কাজ বা ব্যক্তিগত উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি করে এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার ব্যাহত হয়।
ঘুমের ব্যাঘাত: রাত জেগে মোবাইল স্ক্রিনে তাকালে ঘুমের সময় কমে যায়, ফলে শারীরিক ক্লান্তি ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়।
গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি: ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে শেয়ারের মাধ্যমে পরিচয় চুরি, প্রতারণা বা সাইবার বুলিংয়ের মতো সমস্যার পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
সামাজিক সম্পর্ক দুর্বল হওয়া: বাস্তব জীবনের মানুষের সাথে যোগাযোগের স্থান দখল করে নেয় অনলাইনভিত্তিক যোগাযোগ, যা পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সম্পর্কের দূরত্ব বাড়ায়।

বিষয় কোডঃ ১০৫ (টেকনিক্যাল, মানঃ ৮০)
১। (ক) Preterm এবং Low Birth-weight Baby বলতে কী বোঝায়?
(খ) একটি Low Birth-weight Baby কি কি তাৎক্ষণিক ঝুঁকির মধ্যে থাকে?
(গ) Exclusive breast feeding বলতে কী বোঝায়? Exclusive breast feeding এর উপকারিতাগুলি বর্ণনা করুন।

(ক) উত্তর:
১. Preterm Baby: যে নবজাতক গর্ভাবস্থার ৩৭ সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগেই জন্মগ্রহণ করে, তাকে Preterm Baby বলে।
২. Low Birth-weight Baby: যে নবজাতকের জন্মের সময় ওজন ২.৫ কেজি (২৫০০ গ্রাম)-এর কম থাকে, তাকে Low Birth-weight Baby বলা হয়।

(খ) উত্তর:
যেসব নবজাতকের জন্মের সময় ওজন ২.৫ কেজির কম, তারা বিভিন্ন তাৎক্ষণিক (Immediate) এবং দীর্ঘমেয়াদি (Long-term) ঝুঁকির মধ্যে থাকে। নিচে তাৎক্ষণিক ঝুঁকিগুলো তুলে ধরা হলো-
১. Hypothermia (শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়া)
২. Hypoglycemia (রক্তে শর্করা কমে যাওয়া)
৩. Respiratory Distress (শ্বাসকষ্ট)
৪. Infection (সংক্রমণ) প্রতিরোধ সিস্টেম দুর্বল থাকার কারণে সহজেই ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে।
৫. Neonatal Jaundice (নবজাতকের জন্ডিস)
৬. Feeding Difficulty (খাওয়ার সমস্যা)
৭. Apnea / Bradycardia (শ্বাস ও হৃদস্পন্দন কমে যাওয়া) খুবই কম ওজনের শিশুদের মধ্যে মাঝে মাঝে শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় বা হৃদস্পন্দন ধীর হয়। এটি একটি জরুরি অবস্থা যার তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দরকার।

(গ) উত্তর: Exclusive Breast Feeding-
সংজ্ঞা: Exclusive Breast Feeding (EBF) বলতে বোঝায়- শিশুর জন্মের পর থেকে প্রথম ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের দুধ (Breast milk) খাওয়ানো, অর্থাৎ এই সময়ে পানি, মধু, ফলের রস, সুজি দুধ বা অন্য কোনো খাবার বা পানীয় না দেওয়া। তবে শুধুমাত্র ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী ওষুধ বা ভিটামিন দেওয়া যেতে পারে।
WHO ও UNICEF-এর সুপারিশ: "শিশুর জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে দুধ খাওয়ানো শুরু করতে হবে এবং প্রথম ছয় মাস পর্যন্ত একচেটিয়া (Exclusive) স্তন্যপান করাতে হবে।"

Exclusive Breast Feeding-এর উপকারিতা (Benefits of EBF):
শিশুর জন্য উপকারিতা (Benefits for the Baby):
১. সম্পূর্ণ পুষ্টি প্রদান করে: মায়ের দুধে শিশুর বৃদ্ধির জন্য সব প্রয়োজনীয় উপাদান (Protein, Fat, Carbohydrate, Vitamins, Minerals) পরিমান মত থাকে।
২. সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়: মায়ের দুধে থাকা Antibody (Immunoglobulin A) শিশুকে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও অন্যান্য রোগ থেকে রক্ষা করে।
৩. সহজে হজম হয়: মায়ের দুধ শিশুর পরিপাকতন্ত্রের জন্য উপযোগী, কোনো গ্যাস বা অ্যালার্জি হয় না।
৪. বুদ্ধিবিকাশে সাহায্য করে: মায়ের দুধে DHA ও Taurine থাকে, যা শিশুর মস্তিষ্ক ও চোখের উন্নতিতে সহায়ক।
৫. মায়ের কোলে দুধ খেলে শিশুর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৬. মায়ের সাথে শিশুর মানসিক বন্ধন (bonding) গড়ে ওঠে।
৭. শিশুর হঠাৎ মৃত্যুর (SIDS) ঝুঁকি কমায়。

মায়ের জন্য উপকারিতা (Benefits for the Mother):
১. Postpartum bleeding (রক্তপাত) কমায় স্তন্যপান করালে অক্সিটোসিন নিঃসৃত হয় যা জরায়ু সংকুচিত করে।
২. জরায়ু দ্রুত স্বাভাবিক আকারে ফিরে আসে।
৩. পরবর্তী গর্ভধারণ বিলম্বিত হয় (Natural contraception)- Lactational amenorrhea effect।
৪. স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।
৫. মায়ের সাথে শিশুর আবেগীয় সম্পর্ক দৃঢ় হয়।
৬. খরচ ও সময় বাঁচায়।

সমাজ ও পরিবেশের জন্য উপকারিতা (Benefits for Family & Society):
১. পরিবারের অর্থ সাশ্রয় হয়- ফর্মুলা দুধ বা বোতল কেনার প্রয়োজন নেই।
২. পরিবেশবান্ধব কোনো বর্জ্য বা প্লাস্টিক তৈরি হয় না।
৩. শিশুদের রোগ কমায়, হাসপাতাল খরচ কমে।
৪. সুস্থ প্রজন্ম তৈরি করে।

২। (ক) EPI কী?
(খ) Pentavalent এ কী কী রোগের ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়?
(গ) জন্মনিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিগুলো কী কী? Intra uterine contraceptive device এ কী কী complication হতে পারে?

(ক) EPI কী?
সম্পূর্ণ নাম: EPI = Expanded Programme on Immunization (বাংলায়: সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি)
সংজ্ঞা: EPI হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় পরিচালিত একটি জাতীয় কর্মসূচি, যার মূল উদ্দেশ্য হলো- শিশু ও মাতৃমৃত্যু হ্রাস করা এবং টিকা-নিরোধযোগ্য (Vaccine-preventable) রোগ থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া। বাংলাদেশে EPI কর্মসূচি শুরু হয় ১৯৭৯ সালে।

(খ) Pentavalent এ কী কী রোগের ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়?
Pentavalent Vaccine হলো একটি সমন্বিত (Combination) টিকা, যা একসাথে পাঁচটি রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে। অর্থাৎ, এক ইনজেকশনে পাঁচটি রোগের টিকা দেওয়া হয়।
Pentavalent টিকার উপাদান (Components):

ক্র. নং রোগের নাম প্রতিরোধক উপাদান
১DiphtheriaDPT (D) অংশ
২Pertussis (Whooping cough)DPT (P) অংশ
৩TetanusDPT (T) অংশ
৪Hepatitis BHepB অংশ
৫Haemophilus influenzae type B (Hib)Hib অংশ

Vaccine = DPT + HepB + Hib

(গ) জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রধান পদ্ধতিসমূহ (Types of Contraceptive Methods):
১. প্রাকৃতিক পদ্ধতি (Natural Methods):
• Safe period / Rhythm method: মাসিক চক্রের নিদিষ্ট দিনগুলোতে যৌন সম্পর্কে জড়ানো।
• Coitus interruptus: সঙ্গমের সময় বীর্যপাতের আগেই পুরুষাঙ্গ বের করে নেওয়া।
• Lactational Amenorrhea Method (LAM): একচেটিয়া স্তন্যদান (Exclusive breastfeeding) এর ফলে ৬ মাস পর্যন্ত গর্ভধারণ রোধ হয়।
২. প্রতিবন্ধক পদ্ধতি (Barrier Methods):
• Condom (Male/Female) সবচেয়ে প্রচলিত, HIV ও যৌনরোগ প্রতিরোধে কার্যকর।
• Diaphragm বা Cervical cap- নারীর যোনিতে স্থাপন করা হয়।
• Spermicidal jelly / Foam / Cream শুক্রানু ধ্বংস করে।
৩. হরমোনাল পদ্ধতি (Hormonal Methods):
• Oral contraceptive pills (Combined/Progestin only) প্রতিদিন খাওয়া হয়।
• Injectable contraceptives (DMPA) প্রতি ৩ মাসে একবার ইনজেকশন।
• Implant (Norplant / Implanon) হাতে ত্বকের নিচে স্থাপন, ৩-৫ বছর কার্যকর।
• Emergency contraceptive pill (ECP) অনিরাপদ যৌন সম্পকের ৭২ ঘন্টার মধ্যে।
৪. জরায়ুভ্যন্তরীন পদ্ধতি (Intrauterine Device - IUD / IUCD):
গর্ভাশয়ের ভেতরে ছোট একটি যন্ত্র স্থাপন করা হয়, যা ৩-১০ বছর পর্যন্ত গর্ভধারণ রোধ করে।
উদাহরণ: Copper-T (CuT 380A), Multiload 375, Hormonal IUD (Mirena)
৫. স্থায়ী পদ্ধতি (Permanent / Surgical Methods):
• Tubectomy / Laparoscopic sterilization নারীদের জন্য (ফ্যালোপিয়ান টিউব কেটে দেওয়া)।
• Vasectomy পুরুষদের জন্য (ভাস ডিফারেন্স কেটে দেওয়া)।

Intra Uterine Contraceptive Device (IUCD)-এর জটিলতা / Complications:
Immediate complications: পেটে ব্যথা বা ক্র্যাম্প; হালকা রক্তপাত (spotting); মাথা ঘোরা বা অস্বস্তি (Insertion-এর সময়)।
Early complications: অতিরিক্ত মাসিক রক্তপাত (Menorrhagia); অনিয়মিত মাসিক (Irregular bleeding); ভ্যাজাইনাল স্রাব বা দুর্গন্ধ; পেটের ব্যথা।
Late complications: Pelvic Inflammatory Disease (PID) সংক্রামণ ছড়িয়ে পড়া; IUCD expulsion যন্ত্রটি বের হয়ে যাওয়া; Perforation of uterus জরায়ু ছিদ্র হয়ে যাওয়া; Ectopic pregnancy গর্ভাশয়ের বাইরে গর্ভধারণ (বিরল কিন্তু বিপজ্জনক)।

৩। (ক) হেপাটাইটিস রোগ বলতে কী বোঝায়?
(খ) হেপাটাইটিস রোগ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষাসমূহের নাম লিখুন।
(গ) পোড়া রোগীর মৃত্যুর প্রধান কারণ কী?

(ক) হেপাটাইটিস রোগ বলতে কী বোঝায়?
সংজ্ঞা (Definition): হেপাটাইটিস (Hepatitis) হলো লিভার বা যকৃতের প্রদাহ (inflammation of liver)। এর প্রধান কারণ ভাইরাস সংক্রমণ তবে এটি বিভিন্ন কারণে হতে পারে- যেমন অ্যালকোহল, ওষুধ বা বিষাক্ত পদার্থ ইত্যাদি।

(খ) হেপাটাইটিস রোগ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষাসমূহের নাম:
রোগ নির্ণয়ের নিশ্চিত করার জন্য কিছু রক্ত পরীক্ষা (Blood test) ও ইমেজিং পরীক্ষা করা হয়-
১. ল্যাবরেটরি টেস্ট (Laboratory Tests):
(১) Liver Function Test (LFT): SGPT/ALT বেড়ে যায়; SGOT/AST বেড়ে যায়; Serum Bilirubin - বৃদ্ধি পায়; Alkaline phosphatase (ALP) বৃদ্ধি পায়; Prothrombin time (PT) দীর্ঘ হতে পারে।
(২) Viral Marker Tests: Hepatitis B: HBsAg, HBeAg, Anti-HBc, Anti-HBs antibody; Hepatitis C: Anti-HCV, HCV RNA।
(৩) Complete Blood Count (CBC): সংক্রামণ বা প্রদাহের উপস্থিতি বোঝায়।
২. ইমেজিং টেস্ট (Imaging Tests):
• Ultrasonography (USG) of abdomen: লিভারের আকার, আকৃতি ও গঠন দেখা হয়।
• CT Scan/MRI (যদি প্রয়োজন হয়): লিভারের অবস্থা মূল্যায়ন।
৩. অন্যান্য পরীক্ষা: Liver biopsy: লিভার কোষের প্রকৃতি যাচাই করতে; Serum albumin & total protein: লিভারের প্রোটিন তৈরির ক্ষমতা বোঝায়।

(গ) আগুনে দগ্ধ রোগীর মৃত্যুর প্রধান কারণগুলো (Main Causes of Death in Burn Patients):
১. Shock (শক বা রক্তসংবহনজনিত অস্বাভাবিকতা): দগ্ধ স্থানে রক্তনালীর ব্যাপক ক্ষতি ও তরল পদার্থ (plasma) বেরিয়ে যাওয়ার ফলে রক্তের পরিমাণ কমে যায়। রক্তের রক্তচাপ কমে যায়, টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় Hypovolemic shock হয়ে মৃত্যু হতে পারে।
২. Sepsis (সেপসিস): পোড়া ত্বক জীবাণুর প্রবেশের জন্য উন্মুক্ত হয়। Staphylococcus, Pseudomonas ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে রক্তে সংক্রামণ ছড়ায়। সংক্রামণ ছড়িয়ে Septicemia বা Septic shock তৈরি হয়ে মৃত্যু ঘটায়।
৩. Respiratory failure (শ্বাসকষ্ট): আগুন বা ধোঁয়া (smoke inhalation) শ্বাসনালী ও ফুসফুসের ক্ষতি করে। ফলে Airway obstruction, Pulmonary edema, বা acute respiratory distress syndrome (ARDS) হতে পারে এবং মৃত্যু হতে পারে।
৪. Renal failure (কিডনি বিকল): শরীরে পানিশূন্যতা ও তীব্র শকের ফলে Myoglobinuria ও Toxemia হয়। এতে Acute renal failure হয়ে মৃত্যু ঘটে।
৫. Multi-organ failure (একাধিক অঙ্গের ব্যর্থতা): গুরুতর দগ্ধ রোগীদের ক্ষেত্রে একে একে হৃদপিণ্ড, কিডনি, লিভার, ও ফুসফুস কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এটি দগ্ধ রোগীদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।
৬. Electrolyte imbalance (ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা): দগ্ধ ত্বক দিয়ে প্রচুর সোডিয়াম, পটাসিয়াম ও তরল পদার্থ বেরিয়ে যায়। এর ফলে হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়।

Quick Summary: Burn Death Causes: Shock, Sepsis, Respiratory failure, Renal failure, Toxemia, Multi-organ failure

৪। ব্যবহারিক
(ক) একজন রোগীর পা surgical amputation করা হবে। উক্ত অপারেশনের জন্য একটি নমুনা সম্মতিপত্র (Informed Consent) তৈরী করুন।
(খ) একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে নিজেকে সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করার জন্য করণীয় কী তা উল্লেখ করুন।

(ক) উত্তরঃ "পায়ের surgical amputation" অপারেশনের জন্য সম্মতিপত্র-

সম্মতি পত্র

রোগীর নাম: ....................................... বয়স: ............ লিঙ্গ: ............
মোবাইল নং: ...................................... বেড নং: .......... রেজিঃ নংঃ ...........
ঠিকানা: ..........................................................................................

আমি আমার রোগীকে/নিজেকে সম্পূর্ণ অজ্ঞান অথবা আংশিকভাবে অবশ করে "পায়ের surgical amputation" অপারেশনের জন্য ডাঃ .................................................... এবং তার নির্বাচিত সহকারীদেরও মনোনীত করছি। অপারেশনের প্রক্রিয়া এবং অপারেশনের বিষয়াদি সম্পর্কে চিকিৎসক আমাকে বিস্তারিত জানিয়েছেন। অপারেশন প্রক্রিয়ায় কোনো নতুন পরিস্থিতি, জটিলতা বা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত ও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি তার উপর আস্থা রাখছি এবং এতে ডাক্তারগণ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। অপারেশন চলাকালীন এনেস্থেসিয়ার দায়িত্ব আমার সম্মতিক্রমে ডাঃ .................................................... কে দেয়া হয়েছে এবং তিনি এ ব্যাপারে প্রয়োজনমত ব্যবস্থা নিবেন।

আমি এই মর্মে নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, আমি অপারেশন সংক্রান্ত সম্মতিপত্র পুরোপুরি পড়েছি এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আমাকে যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

১। স্বাক্ষর: .................................
রোগীর সাথে সম্পর্ক: ......................
২। স্বাক্ষর: .................................
রোগীর সাথে সম্পর্ক: ......................

(খ) একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে নিজেকে সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করার করণীয় (Precautions for Health Workers to Prevent Infectious Diseases):
ভূমিকা: স্বাস্থ্যকর্মীরা (Doctors, Nurses, Paramedics, Technicians ইত্যাদি) নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সংক্রামক রোগীর সংস্পর্শে আসেন। তাই নিজেদের নিরাপত্তা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, নাহলে তারা Hepatitis B, HIV, Tuberculosis, COVID-19 ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।

স্বাস্থ্যকর্মীর করণীয়:
১. ব্যক্তিগত সুরক্ষা (Personal Protective Measures): সর্বদা Personal Protective Equipment (PPE) Gloves, Mask, Gown / Apron, Face shield/Goggles, Cap Shoe cover ব্যবহার করতে হবে।
২. রোগীর সংস্পর্শে আসার আগে ও পরে হাত ধোয়া (Hand washing) বাধ্যতামূলক।
৩. চোখ, নাক ও মুখে হাত না দেওয়া।
৪. নিডেল ইনজুরি বা রক্ত সংস্পর্শ থেকে সুরক্ষা।
৫. Used syringe / needle কখনও পুনরায় ব্যবহার করা যাবে না।
৬. ইনজেকশন দেওয়ার পর Needle recapping না করে সরাসরি safety box-এ ফেলতে হবে।
৭. Needlestick injury হলে সঙ্গে সঙ্গে সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে Post-Exposure Prophylaxis (PEP) নিতে হবে।
৮. স্বাস্থ্যকর্মীদের নিম্নলিখিত টিকা গ্রহণ আবশ্যক- Hepatitis B Vaccine, Tetanus (TT/Td), Influenza Vaccine।
৯. সব যন্ত্রপাতি Sterilization বা High-level disinfection করতে হবে।
১০. সংক্রমিত রক্ত, মল-মূত্র বা থুতু Chlorine solution (1%) দিয়ে পরিস্কার করতে হবে।
১১. বেড, লিনেন, যন্ত্রপাতি নিয়মিত ধোয়া ও রোদে শুকানো উচিত।
১২. সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (Waste Disposal)
১৩. আলাদাভাবে Infectious waste সংগ্রহ ও নিষ্পত্তি করতে হবে।
১৪. সূঁচ বা ব্লেডের জন্য Sharps disposal box ব্যবহার করতে হবে।
১৫. হাসপাতালের বর্জ্য Incinerator বা deep burial পদ্ধতিতে ধ্বংস করতে হবে।
১৬. শ্বাসযন্ত্রের সুরক্ষা (Respiratory Protection): সার্জিক্যাল মাস্ক বা এন-৯৫ মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
১৭. Isolation room ব্যবহার।
১৮. প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা: সংক্রমণ প্রতিরোধ বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নেওয়া।
১৯. নতুন সংক্রমণ বা প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে আপডেট থাকা।
২০. ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সময় মনোযোগ ও সতর্কতা বজায় রাখা।

উপসংহার: নিজেকে নিরাপদ রাখাই একজন স্বাস্থ্যকর্মীর প্রথম দায়িত্ব। কারণ, স্বাস্থ্যকর্মী যদি অসুস্থ হন, তাহলে রোগীর সেবা ব্যাহত হয়। তাই সর্বদা Infection Prevention and Control (IPC) নীতিমালা মেনে চলা অপরিহার্য।

৫। (ক) আকার (Size) অনুযায়ী কয় ধরণের Intravenous Cannula পাওয়া যায়?
(খ) 'Intravenous Canula' লাগানোর পদ্ধতি বর্ণনা করুন।
(গ) 'Intravenous Canula' লাগানোর সময় ও পরবর্তীতে কী কী complication হতে পারে?

(ক) উত্তরঃ সাইজ অনুযায়ী আমাদের দেশে সাধারণত ৭ ধরনের ক্যানুলা পাওয়া যায়। যথা-

Size Color code Use
14 GOrangeRapid and large volume replacement therapy.
16 GGrayRapid and large volume replacement therapy.
18 GGreenFor Blood transfusion and normal use for infusion, medication etc.
20 GPinknormal use for infusion, medication etc
22 GBluePaediatric usage
24 GYellowPaediatric & neonates usage
26 GPurpleneonates usage

(খ) 'Intravenous Cannula' লাগানোর পদ্ধতি বর্ণনা করুন:
উপকরণঃ পরিষ্কার ট্রে, অ্যালকোহল ভিত্তিক সলিউশন, গ্লাভস, অ্যালকোহল প্যাড, টর্নিকেট ক্যানুলা, মাইক্রোপোর বা অ্যাডহেসিভ টেপ, একটি সিরিঞ্জ, নরমাল স্যালাইন, শার্প বক্স, কলম।
পদ্ধতিঃ
• রোগীকে অভিবাদন বা সালাম জানান
• রোগীকে প্রসিডিউর সম্পর্কে বুঝিয়ে বলুন
• সম্মতি অর্জন করুন
• রোগীকে যথোপযুক্ত অবস্থানে বসান।
• হাত ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করুন।
• প্যাকেট থেকে ক্যানুলাটি বের করুন এবং এর সমস্ত অংশ কার্যকর রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করুন
• যেখানে ক্যানুলা প্রবেশ করাবেন তার ৭-১০ সেমি উপরে টর্নিকেট বা টাই বাঁধুন।
• শিরা শনাক্ত করুন
• গ্লাভস পরিধান করুন
• অ্যালকোহল প্যাড দিয়ে স্থানটি পরিষ্কার করুন
• ক্যানুলা হাতে নিন এবং ত্বকে ১০-৩০ ডিগ্রি কোণে প্রবেশ করান।
• ফ্ল্যাশব্যাক চেম্বারে রক্ত আসছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করুন
• রক্ত আসলে টর্নিকেট খুলে ফেলুন
• ক্যানুলা থেকে সুইটি সরান এবং এটি শার্প বক্সে ফেলে দিন।
• ক্যানুলার সাথে সাদা লক ক্যাপ সংযুক্ত করুন
• একটি উপযুক্ত ড্রেসিং (অ্যাডেসিভ টেপ) দিয়ে ক্যানুলাটি নিরাপদে স্থির করুন।
• ২-৫ মিলি ০.৯% নরমাল স্যালাইন দিয়ে ক্যানুলা ফ্লাশ করুন।
• ক্যানুলা করার তারিখ ও সময় লিখে দিন।
• বর্জ্য পদার্থ নির্দিষ্ট বিনে ফেলুন এবং গ্লাভস খুলে ফেলুন
• রোগীর কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত হন
• প্রসিডিউরটি নথিবদ্ধ করুন।

(গ) 'Intravenous Cannula' লাগানোর সময় ও পরবর্তীতে কী কী complication হতে পারে?
উত্তর: ইন্‌ট্রাভেনাস ক্যানুলা (Intravenous Cannula) বা IV cannula লাগানোর সময় এবং লাগানোর পর বিভিন্ন ধরণের complication (জটিলতা) দেখা দিতে পারে। এগুলো সাধারণত স্থানীয় (local) ও সিস্টেমিক (systemic) এই দুই ভাগে বিভক্ত। নিচে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হলো:

ইনট্রাভেনাস ক্যানুলা লাগানোর সময়:
১. Pain (ব্যথা): অনুপযুক্ত টেকনিক, বারবার সূঁচ প্রবেশের চেষ্টা করলে ব্যথা হতে পারে।
২. Vein Injury (শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া): অতিরিক্ত চাপ বা ভুল কোণে ক্যানুলা প্রবেশ করালে শিরা ছিদ্র হতে পারে। ফলে hematoma (রক্ত জমাট) সৃষ্টি হয়।
৩. Arterial Puncture (ধমনীতে প্রবেশ): ভুলবশত ধমনীতে প্রবেশ করালে রক্তপাত ও ব্যথা হতে পারে।
৪. Nerve Injury হতে পারে।

ক্যানুলা লাগানোর পর:
১. Infiltration (ইনফিলট্রেশন): ইনফিউশন তরল শিরার বাইরে আশপাশের টিস্যুতে প্রবেশ করলে।
২. Phlebitis (ফ্লেবাইটিস): শিরার প্রদাহ।
৩. Thrombophlebitis (থ্রম্বোফ্লেবাইটিস): শিরার ভেতরে রক্ত জমাটের সাথে প্রদাহ।
৪. Hematoma (হেমাটোমা): শিরা ফেটে চামড়ার নিচে রক্ত জমা হওয়া।
৫. Infection (সংক্রমণ): ক্যানুলা লাগানোর সময় বা রক্ষণাবেক্ষণে জীবাণু প্রবেশ।
৬. Extravasation (ওষুধ টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়া): রক্তনালীগুলি থেকে বাইরে iv infused করানো।
৭. Air Embolism (বায়ু জমাট): ইনফিউশন লাইনে বাতাস প্রবেশ করে রক্তে বায়ু বুদবুদ তৈরি হওয়া।

৬। (ক) 'Surgical wound closure' এ ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরণের suture materials এর নাম ও প্রয়োগের স্থান উল্লেখ করুন।
(খ) Surgical Stitch কাটার সময় কী কী যন্ত্রপাতি ও লজিস্টিকস দিয়ে একজন নার্স চিকিৎসককে সহায়তা করবেন?

(ক) উত্তর: Suture materials হলো সেইসব সুতা বা পদার্থ যা অস্ত্রোপচারের পরে ক্ষতস্থান (wound) বন্ধ করতে, অর্থাৎ টিস্যুর প্রান্ত একত্রে ধরে রাখতে ব্যবহৃত হয়, যতক্ষণ না টিস্যু নিজে থেকে নিরাময় হয়ে যায়।

বিভিন্ন ধরনের Suture Materials এর নাম ও প্রয়োগের স্থান:
১। Absorbable Sutures (যা শরীরের নিচে থেকেই গলে যায়):

নাম ব্যবহারের স্থান / প্রয়োগ
Plain Catgut (প্রাণীর অস্ত্র থেকে তৈরি)ত্বকের নিচে (subcutaneous tissue), অভ্যন্তরীণ টিস্যু, ছোট রক্তনালী বন্ধে
Chromic Catgut (ট্যানিন দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা)জরায়ু, মাংসপেশী, ফাসিয়া ধীরে শোষিত হয়
Vicryl (Polyglactin 910) (সিন্থেটিক)অভ্যন্তরীণ টিস্যু, মিউকাস মেমব্রেন, পরিপাক নালী
Dexon (Polyglycolic acid) (সিন্থেটিক)মাংসপেশী ও গাইনেকোলজিক অপারেশনে
PDS (Polydioxanone) (সিন্থেটিক)ধীরে নিরাময় হয় এমন গভীর টিস্যুতে

২। Non-absorbable Sutures (যা শরীরে গলে না, পরে খুলে ফেলতে হয়):

নাম ব্যবহারের স্থান / প্রয়োগ
Silk (প্রাকৃতিক তন্তু থেকে)ত্বকের সেলাই, চোখ, মুখ ও রক্তনালীর সেলাই
Nylon (Polyamide) (সিন্থেটিক)ত্বক, প্লাস্টিক সার্জারি, ত্বক সেলাই
Prolene (Polypropylene) (সিন্থেটিক)রক্তনালী, হৃদযন্ত্রের সার্জারি, ত্বক
Stainless Steel Wire (ধাতব)হাড়ের সার্জারি (orthopedic), sternum বন্ধে
Ethilon (সিন্থেটিক)মুখ বা কানের সূক্ষ্ম সেলাইয়ে ব্যবহার
Polyester (Ethibond) (সিন্থেটিক)কার্ডিয়াক বা orthopedic surgery-তে

(খ) Surgical Stitch কাটার সময় কী কী যন্ত্রপাতি ও লজিস্টিকস দিয়ে একজন নার্স চিকিৎসককে সহায়তা করবেন?
ভূমিকা: সার্জিক্যাল সেলাই (surgical stitch বা suture) অপসারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ নার্সিং প্রক্রিয়া। এই কাজের সময় সংক্রমণ প্রতিরোধ ও রোগীর আরাম নিশ্চিত করার জন্য সঠিক instruments and logistics প্রস্তুত রাখা অপরিহার্য।

প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণের তালিকা (List of Instruments & Logistics):

ক্র. নং যন্ত্র / উপকরণের নাম ব্যবহার / উদ্দেশ্য
১Sterile dressing tray with coverসমস্ত যন্ত্র রাখার জন্য জীবাণুমুক্ত ট্রে
২Sterile glovesহাত জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য
৩Suture cutting scissorsসেলাইয়ের সুতা কাটার জন্য
৪Artery forcepsসেলাইয়ের গিট বা সুতার মাথা ধরার জন্য
৫Sterile gauze piecesরক্ত বা তরল মুছে ক্ষত শুকনো রাখার জন্য
৬Antiseptic solutionক্ষতস্থল পরিষ্কার করার জন্য
৭Kidney trayব্যবহৃত গজ, কাটাসুতা বা বর্জ্য রাখার জন্য
৮Waste Binবর্জ্য ফেলার জন্য
৯Adhesive plaster / Steri-strip/Bandageসেলাই কাটা শেষে ক্ষত বন্ধ রাখতে বা ঢেকে দিতে
১০BP Blade (No.11 or 15)প্রয়োজন হলে সূক্ষ্ম কাটা দেওয়ার জন্য
১১Light source / Torchপর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করতে
১২Tissue forcepsটিস্যু আলতো করে ধরতে, ক্ষত না টানার জন্য
১৩Normal saline solution (0.9%)ক্ষত ধোয়ার জন্য (irrigation)
১৪Patient identification & consent formপ্রক্রিয়া শুরুর আগে রোগীর নাম ও সম্মতি নিশ্চিত করতে

নার্স এর দায়িত্ব:
প্রসিডিউর শুরুর আগে:
• প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশে সাজানো।
• রোগীকে প্রসিডিউরের উদ্দেশ্য ও ধাপগুলো বুঝিয়ে বলা।
• রোগীর সম্মতি নিশ্চিত করা।
• আলোর ব্যবস্থা ও প্রাইভেসি নিশ্চিত করা।
• হাত ধুয়ে sterile gloves পরা।
প্রসিডিউর চলাকালে:
• চিকিৎসককে যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে প্রদান করা।
• ক্ষতস্থল পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করা।
• সেলাই কাটা হলে ব্যবহৃত সুতা ও বর্জ্য পাত্রে ফেলা।
• রক্তপাত বা সংক্রমণের লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করা।
প্রসিডিউরের পরে:
• ক্ষতস্থল antiseptic solution দিয়ে পরিষ্কার করে sterile dressing দেওয়া।
• ব্যবহৃত যন্ত্র জীবাণুমুক্তকরণের জন্য পাঠানো।
• রোগীর vital signs পর্যবেক্ষণ করা।
• ড্রেসিং তারিখ ও সেলাই কাটা তারিখ নথিভুক্ত করা।

উপসংহার: সেলাই কাটার সময় সঠিক যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখা ও সংক্রমণ রোধে aseptic technique অনুসরণ করা একজন দক্ষ নার্সের প্রধান দায়িত্ব।

৭। (ক) ডায়াবেটিক (Diabetic) এ আক্রান্ত একজন রোগী কী কী complications এর শিকার হতে পারেন?
(খ) ডেঙ্গু (Dengue) রোগ ডায়াগোনোসিসের জন্য কী কী পরীক্ষা করা হয়?
(গ) ডেঙ্গু (Dengue) রোগ প্রতিরোধের জন্য করণীয় কী তা উল্লেখ করুন।

(ক) উত্তরঃ ডায়াবেটিস রোগীর জটিলতা-
• হাইপোগ্লাইসেমিয়া
• হাইপারগ্লাইসেমিয়া
• ডায়াবেটিক কিটো এসিডোসিস (DKA)
• এসিডোসিস
• পেরিফেরাল ভাস্কুলার রোগ
• ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি- স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা
• ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি- কিডনিতে সমস্যা
• ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি- চোখের সমস্যা
• হার্টের রোগ- করোনারি আরটারি ডিজিজ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ইত্যাদি
• পায়ের সমস্যা যেমন আলসার, গ্যাংরিন ইত্যাদি।

(খ) ডেঙ্গু (Dengue) রোগ ডায়াগোনোসিসের জন্য কী কী পরীক্ষা করা হয়?
ভূমিকাঃ ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা Aedes aegypti মশার মাধ্যমে ছড়ায়। সঠিকভাবে রোগ নির্ণয়ের জন্য কিছু নির্দিষ্ট রক্ত পরীক্ষা (Blood tests) করা প্রয়োজন, যা রোগের পর্যায় (early or late phase) অনুযায়ী ভিন্ন হয়।
প্রাথমিক পর্যায়ের পরীক্ষা:
১. Dengue NS1 (Nonstructural Protein 1)
২. RT-PCR (Reverse Transcriptase Polymerase Chain Reaction)
পরবর্তী পর্যায়ের পরীক্ষা:
১. IgM Antibody Test
২. IgG Antibody Test
সহায়ক পরীক্ষা:
১. Complete Blood Count (CBC)
২. Hematocrit (HCT) Test

(গ) ডেঙ্গু (Dengue) রোগ প্রতিরোধের জন্য করণীয়:
মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা:
• Aedes মশা বংশবিস্তার করে এমন স্থির পানি (যেমন ফুলের টব, ক্যান, টায়ার, ড্রাম, ফ্রিজ ট্রে) প্রতি সপ্তাহে পরিষ্কার করা।
• পানি জমে থাকতে না দেওয়া- "No water, No mosquito"।
• মশা মারার স্প্রে, কয়েল, বা মশারি ব্যবহার।
• মাছ (Guppy fish) ব্যবহার করে পানিতে মশার লার্ভা ধ্বংস।
• এলাকার ড্রেন ও নালা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা।
ব্যক্তিগত সুরক্ষা:
• লম্বা হাতা জামা ও ফুলপ্যান্ট পরা।
• মশার কামড় থেকে রক্ষায় mosquito repellent lotion ব্যবহার।
• দিনের বেলায়ও মশারি ব্যবহার (কারণ Aedes মশা দিনে কামড়ায়)।
• শিশুদের ঘুমানোর সময় মশারি বা নেট ব্যবহার।
জনসচেতনতা বৃদ্ধিঃ
• টিভি, রেডিও, স্কুল ও কমিউনিটি ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি।
• ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
• স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ে Clean-up campaign পরিচালনা।
স্বাস্থ্যকর্মীর করণীয়:
• বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া।
• সন্দেহজনক রোগী দ্রুত শনাক্ত ও রিপোর্ট করা।
• স্থানীয়ভাবে মশা নিধন ও ফগিং কার্যক্রমে সহায়তা করা।

৮। (ক) ডায়রিয়া রোগীর চিকিৎসার সময় কী কী মনিটর করা প্রয়োজন?
(খ) রোগীর চিকিৎসার সময় কাউন্সিলিং (Counselling) এর গুরুত্ব বর্ণনা করুন।
(গ) একজন নার্স হিসেবে অপারেশন পরবর্তী করণীয় কী কী তা উল্লেখ করুন।

(ক) ডায়রিয়া রোগীর চিকিৎসার সময় কী কী মনিটর করা প্রয়োজন?
ভূমিকা: ডায়রিয়া (Diarrhea) হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে রোগী দিনে তিনবার বা তারও বেশি পাতলা ও তরল মলত্যাগ করে। ডায়রিয়ায় সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ডিহাইড্রেশন (শরীরে পানিশূন্যতা)। তাই চিকিৎসার সময় রোগীর অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ (Monitoring) করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মনিটরিংয়ের প্রধান বিষয়সমূহ:
১. ভাইটাল সাইন মনিটর করা: পালস দ্রুত ও দুর্বল কিনা, পালস দ্রুত ও দুর্বল হলে বুঝতে হবে রোগী শকে যাচ্ছে। জ্বর আছে কি না তা প্রতি ৪-৬ ঘণ্টা পর পর মাপা। রক্তচাপ দেখা। ক্যাপিলারি রিফিল টাইম নেওয়া।
২. শরীরের পানিশূন্যতার লক্ষণ: রোগীর চামড়া টেনে ছেড়ে দিলে পূর্বের অবস্থায় দেরিতে ফিরে আসে কি না দেখা। চোখ ও জিহ্বা শুষ্ক রয়েছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা। মূত্রের পরিমাণ (Urine output) নির্ণয় করা। এসিডোসিস ও শ্বাস কষ্ট পর্যবেক্ষণ।
৩. শক এর লক্ষণ: ঠান্ডা হাত-পা, দ্রুত কিন্তু দুর্বল পালস, ক্যাপিলারি রিফিল টাইম বেড়ে যাওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া।
৪. ফ্লুইড Intake & Output হিসাব করা: রোগী কতটুকু ORS/IV fluid নিচ্ছে তা রেকর্ড করা। Intake-output chart মেইনটেইন করা। ২৪ ঘণ্টায় মোট গ্রহণ ও নির্গমন হিসাব করা।
৫. ওজন (Body Weight) মাপা: পানিশূন্যতা পূরণের অগ্রগতি হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য রোগীর ওজন মাপা।
৬. মলের প্রকৃতি ও পরিমাণ (Stool Observation): কত বার মল ত্যাগ করেছে তার সংখ্যা, মলের গন্ধ, ডেঙ্গু ও রক্ত বা মিউকাস আছে কি না তা দেখা।
৭. সচেতনতা ও মানসিক অবস্থা (Mental Status): রোগী সচেতন, বিভ্রান্ত বা অসাড় কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা। কারণ গুরুতর ডিহাইড্রেশন হলে রোগীর চেতনা কমে যেতে পারে।
৮. খাওয়া ও বমি পর্যবেক্ষণ (Feeding & Vomiting): রোগী খেতে পারছে কিনা বা বমি হচ্ছে কিনা তা দেখা। ঘন ঘন বমি হলে IV fluid চালু করা প্রয়োজন হতে পারে।
৯. Laboratory পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ / Monitoring করা: Electrolyte ব্যালান্স পরীক্ষা করা। ডিহাইড্রেশন হলে Hematocrit (HCT) বৃদ্ধি পায়।

সংক্ষেপে মনে রাখো: Monitoring in Diarrhea: Dehydration signs, Fluid balance, Pulse & BP, CRT, Weight, Stool type, Consciousness, Feeding/Vomiting, Laboratory findings

(খ) রোগীর চিকিৎসার সময় কাউন্সিলিং (Counselling)-এর গুরুত্ব বর্ণনা করুন:
ভূমিকা: Counselling (কাউন্সিলিং) বলতে বোঝায়- রোগীর মানসিক, সামাজিক ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে সঠিক তথ্য, মানসিক সহায়তা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা, যাতে সে নিজের চিকিৎসা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। চিকিৎসা কার্যক্রমে কাউন্সিলিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি রোগীর আস্থা, সহযোগিতা ও মানসিক শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

চিকিৎসার সময় কাউন্সিলিং-এর গুরুত্ব:
১. রোগীর মানসিক সান্ত্বনা প্রদান: অসুস্থ অবস্থায় রোগী ভয়, দুশ্চিন্তা ও হতাশায় ভোগে। কাউন্সিলিং রোগীকে মানসিকভাবে দৃঢ় ও আশ্বস্ত করে, যাতে সে চিকিৎসায় ইতিবাচকভাবে সাড়া দেয়। চাপ, উদ্বেগ এবং ভয় কমাতে সাহায্য করে।
২. চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতন করা: চিকিৎসক বা নার্স রোগীকে তার রোগ, চিকিৎসা পদ্ধতি, ওষুধ ও সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেন। এতে রোগী নিজের অবস্থান ও চিকিৎসার উদ্দেশ্য ভালোভাবে বুঝতে পারে।
৩. চিকিৎসা মেনে চলা নিশ্চিত করা: অনেক সময় রোগী নিয়মিত ওষুধ খায় না বা নির্দেশনামতো চলে না। যথাযথ কাউন্সিলিং রোগীকে ওষুধ সেবন, স্বাস্থ্যবিধি মানা ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুসরণে উৎসাহিত করে।
৪. রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য শিক্ষা: রোগ ছড়ানো রোধে স্বাস্থ্যবিধি ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হয়। (যেমন: ডায়াবেটিস, TB, HIV, ডায়রিয়া বা ডেঙ্গু ইত্যাদির ক্ষেত্রে কাউন্সিলিং কার্যকরী ভূমিকা রাখে)। চিকিৎসার সামগ্রিক সফলতা ও জীবনের মান উন্নত করে।
৫. রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে বিশ্বাস স্থাপন: ভালো যোগাযোগ ও কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে রোগী চিকিৎসকের উপর আস্থা পায়; এতে চিকিৎসার সফলতার হার বাড়ে এবং রোগী নিয়মিত follow-up এ আসে।
৬. পরিবার ও সমাজের সহায়তা নিশ্চিত করা: অনেক রোগের (যেমন মানসিক অসুস্থতা, ক্যান্সার, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা) ক্ষেত্রে পরিবারের সহানুভূতি অপরিহার্য। কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে পরিবারকেও রোগীর যত্ন যুক্ত করা যায়।
৭. সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা: রোগীকে তার চিকিৎসার বিভিন্ন বিকল্প ও সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে জানানো হয়। এতে রোগী ও পরিবার সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে (Informed decision-making)। নির্ধারিত চিকিৎসা পরিকল্পনা মেনে চলতে উৎসাহিত করে।
৮. জীবনযাত্রার পরিবর্তন: ধূমপান ত্যাগ করা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ব্যায়াম, মানসিক প্রশান্তি ইত্যাদি বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।
৯. আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করে: নতুন আত্ম-সচেতনতা ও মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তোলে। আত্মবিশ্বাস ও নিজের স্বাস্থ্যের উপর নিয়ন্ত্রণবোধ বৃদ্ধি করে।

উপসংহার: চিকিৎসা শুধু ওষুধ বা অপারেশন নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া যেখানে রোগীর মানসিক ও সামাজিক সহায়তাও জরুরি। তাই কাউন্সিলিং চিকিৎসা ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ যা রোগীর দ্রুত সুস্থতা ত্বরান্বিত করে।

(গ) একজন নার্স হিসেবে অপারেশন পরবর্তী করণীয় (Post-operative Nursing Care):
অপারেশনের পর রোগী ওয়ার্ডে ফিরে আসার পর নার্সিং কেয়ার ইউনিটের (পিএসিইউ) সমস্ত দায়িত্ব নার্সের এবং মনিটরিং করাকে পোস্ট-অপারেটিভ কেয়ার বলে। একজন নার্স হিসেবে অপারেশন পরবর্তী নার্সিং করণীয়-
১. রোগীকে পরিষ্কার, উষ্ণ ও শান্ত পরিবেশে শয্যায় স্থানান্তর করা।
২. ভাইটাল সাইনস (Vital signs) তাপমাত্রা, পালস, রক্তচাপ, শ্বাস হার পর্যবেক্ষণ করা।
৩. রোগীর অক্সিজেন স্যাচুরেশন, ত্বকের রঙ, রোগীর কনশাসনেস (সচেতন) যেমন রেসপন্স চেক করা।
৪. পজিটিভ প্রেসারযুক্ত আইভি ড্রিপ চেক করা। কোনো স্পেশাল অর্ডারে থাকলে তা ফলো করা।
৫. অপারেশনের সাইটে পর্যবেক্ষণ করা কোনো ধরনের রক্তক্ষরণ আছে কিনা তা দেখা।
৬. রোগীকে কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখা এবং হাঁটু এবং কনুইয়ের উপরে স্ট্র্যাপ দিয়ে সুরক্ষিত করা।
৭. রোগীর সেফটির জন্য বেডের পাশের রেলগুলো উত্থাপিত করা।
৮. রোগীকে আরামদায়ক অবস্থান দেয়া- তাৎক্ষণিক পোস্টঅপারেটিভ পর্যায়ে রোগীদের ধীরে ধীরে এবং সতর্কতার সাথে পজিশন পরিবর্তন করা। সবচেয়ে আরামদায়ক অবস্থানে রাখতে হবে যেখানে কোন জটিলতা নেই। শ্বাস প্রশ্বাসের সুবিধার্থে রোগীকে semi-upright অবস্থানে রাখা।
৯. রোগীর অনুভূতির মাত্রা মূল্যায়ন করা, ঘুম ঘুম ভাব এবং অশান্তির লক্ষণগুলি পর্যবেক্ষণ করা।
১০. রোগীর অত্যাবশ্যক লক্ষণগুলি যেমন হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, শ্বাস-প্রশ্বাসের হার এবং তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করা এবং যে কোনও অস্বাভাবিকতা সনাক্ত করতে ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করা।
১১. রোগীর মাথা ও ঘাড় এমন ভাবে রাখা যাতে শ্বাস নালি সম্পূর্ণ খোলা থাকবে।
১২. কোন সিক্রেশন থাকলে তা সাকশন দিয়ে পরিষ্কার করা।
১৩. নাড়ির হার এবং রক্তচাপ পরিমাপ করা। রক্তক্ষরণ, হাইপোভোলিউমিয়া, হাইপোটেনশন আছে কিনা তা দেখা।
১৪. ইনটেক-আউটপুট চার্ট মেইনটেইন করা এবং নিরীক্ষণ করা।
১৫. শক বা রক্তক্ষরণের প্রাথমিক লক্ষণগুলি সনাক্ত করা যেমন হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, প্রস্রাবের আউটপুট ৩০ মিলি/ঘণ্টার কম হওয়া, ক্যাপিলারি রিফিল টাইম (সিআরটি)- ৩ সেকেন্ডের বেশি হওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া, ট্যাকিকার্ডিয়া বা হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পাওয়া।
১৬. হাইপোথার্মিয়া বা হাইপারথার্মিয়া সনাক্ত করতে প্রতি ঘন্টায় তাপমাত্রা পরিমাপ করা।
১৭. এ্যানেস্থেসিয়ার কারণে কাঁপুনী হতে পারে তা পর্যবেক্ষণ করা।
১৮. রোগীর শরীর ঠান্ডা হলে গরম কম্বল দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। রোগীকে সঠিক তাপমাত্রার পরিবেশে রাখা।
১৯. রোগীর ব্যথার মাত্রা নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন করা এবং ডাক্তারের নির্দেশিত হিসাবে উপযুক্ত ব্যথা উপশম ওষুধ (প্যাথেডিন, মরফিন, রোলাক, সাপোজিটরি ইত্যাদি) দেয়া।
২০. নন-ফার্মাকোলজিকাল ভাবে ব্যথা কমানোর ব্যবস্থাপনা যেমন আরামদায়ক পজিশনিং করা, রিলাক্সেশন ব্যায়াম করা, যখন সম্ভব ঠান্ডা/গরম থেরাপি ইত্যাদি দেয়া।
২১. রোগী মুখে বা শিরায় পর্যাপ্ত হাইড্রেশন এবং পুষ্টি পাচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা। শিরায় ফ্লুইড দেয়ার ক্ষেত্রে লক্ষ রাখতে হবে যে পর্যাপ্ত পরিমাণ ফ্লুইড যাচ্ছে কিনা, ড্রপ রেট মেইনটেইন হচ্ছে কিনা, ইউরিন আউটপুট ঠিক আছে কিনা ইত্যাদি। অস্ত্রোপচারের উপর ভিত্তি করে ডায়েটেশিয়ানদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রথমে তরল, তারপর নরম খাবার, তারপর কঠিন খাবার দেয়া। রোগীকে প্রতিদিন কমপক্ষে ১.৫ থেকে ২ লিটার পানি পান নিশ্চিত করা।
২২. চিকিৎসা উপকরণগুলি পর্যবেক্ষণ করুন: নাসোগ্যাস্ট্রিক টিউব এবং সাকশন সিস্টেম; আইভি ইনফিউশন বা ক্যানুলা সাইট; অক্সিজেন টিউব এবং উৎস; মূত্রনালী ক্যাথেটার: প্রতি ২৪ ঘণ্টা দৈনিক প্রস্রাবের পরিমাণ পরিমাপ করা; ড্রেনকন বা প্লাস্টারের জটিলতা চেক করা; ড্রেনেজ নিষ্কাশন: নিষ্কাশনের পরিমাণ, গন্ধ এবং উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করুন, ড্রেন টিউব ঠিকমত আছে কিনা; অন্ত্র পর্যবেক্ষণ করুন: অন্ত্রের শব্দ এবং মল।
২৩. ডাক্তার কর্তৃক নির্দেশিত ওষুধ (এনালজেসিকস, অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড ইত্যাদি) পরিচালনা করা।
২৪. রোগীকে ওষুধ দেয়ার উদ্দেশ্য, ডোজ এবং সম্ভাব্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করা।
২৫. অস্ত্রোপচারের স্থানে সংক্রমণের লক্ষণ যেমন ফোলা, লাল ভাব, দুর্গন্ধ ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করা।
২৬. ক্ষত ড্রেসিং করার সময় সঠিক অ্যাসেপ্টিক কৌশল অনুসরণ করা এবং সার্জনের নির্দেশ অনুযায়ী পরিষ্কার করে ব্যান্ডেজ করা।
২৭. এবং সার্জিক্যাল সাইটের কোনো পরিবর্তন সার্জনদের কাছে রিপোর্ট করা।
২৮. এধরনের রোগীদের শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা, হাইপোভেন্টিলেশন, অ্যাস্পাইরেশন, ল্যারিংগোস্পাজম, হাইপোটেনশন, হাইপারটেনশন, কার্ডিয়াক ডিসঅ্যারিথমিয়া, এন্ডোট্রাকিয়াল এক্সটুবেশন, হাইপোথার্মিয়া, হাইপারথার্মিয়া ইত্যাদি হতে পারে তাই এইসব জটিলতা কাটাতে সবসময় খেয়াল রাখা।
২৯. রোগীর শ্বাসকষ্টের জটিলতা যেমন অ্যাটেলেক্টোসিস বা নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করতে রোগীকে Deep Breathing Exercise করতে উৎসাহিত করা।
৩০. বেডসোর এর ঝুঁকি হ্রাস করতে ২ ঘন্টা পরপর বিছানায় পজিশন পরিবর্তন করা।
৩১. গভীর শিরার Thrombosis ঝুঁকি হ্রাস এবং পেশী দুর্বলতার মতো জটিলতা প্রতিরোধ করতে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে হাটা চলা করান, বিছানায় পজিশন পরিবর্তন করা এবং বিছানা থেকে উঠে বসা কার্যকলাপে রোগীকে সহায়তা করা।
৩২. কোনো খাবারে অ্যালার্জি আছে কিনা তা জেনে কোন ধরনের খাবার খাবে তার নির্দেশনা দেয়া এবং সম্ভাব্য জটিলতা সম্পর্কে ধারনা দেয়া।
৩৩. রোগী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মানসিক সান্তনা দিতে হবে। তাদের কথা শুনতে হবে এবং তাদের উদ্বেগের সমাধান করতে হবে।

উপসংহার: অপারেশনের পর রোগী শারীরিকভাবে দুর্বল, ব্যথিত ও জটিলতার ঝুঁকিতে থাকে। তাই অপারেশন-পরবর্তী সময় (Post-operative period)-এ নার্সের দায়িত্ব হলো রোগীকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা, ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা এবং জটিলতা প্রতিরোধ করে দ্রুত আরোগ্য নিশ্চিত করা।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url